Published : 27 May 2026, 03:22 AM
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। সোমবার দুপুর থেকে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এই দুই উপজেলার বিদ্যুৎ ও টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল ছিল। বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও দুর্বল হয়ে পড়ে, ফলে জরুরি প্রয়োজনেও যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনেক এলাকায় মোবাইল নেটওয়ার্ক পুরোপুরি বন্ধ ছিল, আবার কিছু স্থানে দুর্বল সংযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। ইন্টারনেট ও ওয়াই-ফাই পরিষেবাও বন্ধ ছিল। রৌমারীর যাদুরচরের বাসিন্দা সামিউল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল নেটওয়ার্কও বন্ধ। অনলাইনে কোনো কাজ করা যাচ্ছে না, আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।’ স্থানীয় আরেক বাসিন্দা সোহেল রানা জানান, কয়েকদিন ধরে দিনে ও রাতে মিলিয়ে মাত্র এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তাও বারবার চলে যাচ্ছে। এর ওপরও приходится অতিরিক্ত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরা। অটোভ্যানচালক আবদুল বাকি মিয়া বলেন, ‘বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাটারি চার্জ দিতে পারছি না, তাই গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। সামনে ঈদ, এই সময়ে আয়-রোজগার করার কথা, কিন্তু এখন অলস বসে থাকতে হচ্ছে।’ রাজিবপুর বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী মো. শাহীন মাহমুদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে ক্রেতারা কেনাকাটা করতে এলেও বিদ্যুৎ না থাকায় দোকানে অন্ধকার। এতে ব্যবসার মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। একই বাজারের মিষ্টি ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সামনে ঈদ। মিষ্টি তৈরি করতে হবে। উপায় না দেখে কুপিবাতি জ্বালিয়ে কাজ করছি।’ শুধু রৌমারী ও রাজিবপুর নয়, গত সোমবার রাত থেকে কুড়িগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চলছে।
এতে শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। উলিপুর শহরের কলেজছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ‘এখন গ্রাম ও শহরের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আগে শহরে অন্তত কিছুটা স্বাভাবিক বিদ্যুৎ থাকত। এখন সামান্য মেঘলা আবহাওয়া হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না।’ এ বিষয়ে জানতে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রৌমারী জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে মূল বিদ্যুৎ লাইন চালু হয়েছে। রাতের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কুড়িগ্রাম-লালমনিরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মো. শামীম পারভেজ বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সময় প্রায়ই গাছ ভেঙে বিদ্যুতের লাইনের ওপর পড়লে তার ছিঁড়ে যায়। দুর্ঘটনার আশঙ্কায় নিরাপত্তার স্বার্থে অনেক সময় সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হয়।।
বিদ্যুৎ না পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্রাহকদের তাণ্ডব, কার্যালয়ে ভাঙচুর